tanot
যুদ্ধে অলৌকিক জয় হয়েছিল ভারতীয় সেনার। ১৯৭১-এর লোঙ্গেওয়ালার যুদ্ধের ইতিহাস অনেকেরই জানা। কিন্তু এক অলৌকিক গল্প রয়েছে সেই জয়ের পিছনে।
সীমান্তে তানোট মাতাই সেদিন রক্ষা করেছিল সেনাবাহিনীকে। পাক সেনার বোমার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল জওয়ানদের। রাজস্থান সীমান্তে তানোট মাতার মন্দির ঘিরে রয়েছে এমনই এক অজানা ইতিহাস।শোনা যায়, প্রায় হাজার তিনেক বোমা ফেলা হয়েছিল। যে জায়গায় মন্দিরটি রয়েছে সেখানেই পড়ে বোমাগুলি।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে একটাও ফাটেনি। এর মধ্যে কয়েকটি বোমা এখনও বিএসএফের তৈরি মিউজিয়ামে রাখা আছে। জয়সলমীর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির। বিখ্যাত এই মন্দিরে পর্যটকদের আনাগোনাও রয়েছে। এমনকি বলিউডের ‘বর্ডার’ ছবিতেও এই দেবীর উল্লেখ রয়েছে।ভারত-পাক সীমান্তের একটি গ্রাম তানোট। চারণকাব্য অনুযায়ী, হিংলাজ মাতারই আ এক রূপ তানোট মাতা। অষ্টাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে তৈরি হয় এই মন্দির।
১৯৬৫ এর যুদ্ধ
অনবরত শেলিং করে চলেছে পাকিস্তান। তার জবাব দেওয়ার মত তেমন অস্ত্রও ছিল না ভারতের কাছে। কিষাণগড় থেকে সাদেওয়ালা পোস্ট জুড়ে দখল নিয়েছি পাকিস্তান। প্রাণ পণ করে লড়াই করে চলেছিল ভারতীয় সেনা।
১৭ নভেম্বর শেলিং শুরু হয় সাদেওয়ালায়, তানোট মাতার মন্দিরের কাছে। অদ্ভুতভাবে ওই পোস্ট লক্ষ্য করে যতগুলি বোমা ফেলেছিল পাক সেনা, তার একটিও ফাটেনি।
১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০০০ বোমা ফেলেছিল বলে জানা যায়। কিন্তু একটা আঁচড়ও কাটতে পারেনি তানোট মন্দিরের গায়ে। কথিত আছে জওয়ানদের স্বপ্নে দেখা দিয়ে তানোট মাতা তাঁদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ১৯৬৫-র যুদ্ধে জয় হয় ভারতের। তারপর ওই মন্দির চত্বরে একটি পোস্ট স্থাপন করে বিএসএফ।  এরপর থেকেই ওই মন্দির বিএসএফের দায়িত্বে রয়েছে। তাঁরাই দেবীর পুজো করেন।
১৯৭১-এর লোঙ্গেওয়ালার যুদ্ধ:
ভারতীয় সেনা যখন পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিচ্ছে, পাকিস্তানও তখন ব্যাপক আক্রমণ করে চলেছে। কিন্তু এবার তারা সাদেওয়ালায় কোনও আক্রমণ করেনি। কারণ ওই জায়গায় শক্ত ঘাঁটি ছিল ভারতীয় বাহিনীর। তানোট মন্দিরের কাছেই লোঙ্গেওয়ালাকে আক্রমণের জন্য বেছে নিয়েছিল পাকিস্তান। সেখানে মেজর কুলদীপ সিং-এর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ১২০ জন জওয়ান। 
তানোট মাতায় ভরসা রেখেই লড়াই করে চলেছিল ভারতীয় সেনা। আর এবারেও এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে সেখানে। পাকিস্তানের ছোঁড়া একটা বোমাও ফাটেনি। মাত্র ১২০ জন সেনারবাহিনীর গুঁড়িয়ে দিয়েছিল পাক সেনার ট্যাংকের একটি স্কোয়াড্রনকে।
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবথেকে লোঙ্গেওয়ালার যুদ্ধই সবথেকে বড়।এরপরই তানোট মাতার এক বড় মন্দির স্থাপন করে বিএসএফ। তেরি করা হয় একটি মিউজিয়ামও। সেখানেই বোমাগুলি রেখে দেওয়া হয়েছে। লোঙ্গেওয়ালায় মন্দির চত্বরে একটি বিজয় স্তম্ভও স্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেক বছর ১৬ ডিসেম্বর সেখানে বিজয় উৎসব পালন করা হয়।
আপনার সোনামনির জন্য নাম খুজে পেতে সহয়তা করতে আমরা আছি আপনার পাশে। এখানে আমরা বিভিন্ন ক্যাটাহরীতে কয়েক হাজার নাম ও তার অর্থসহ সংগ্রহ করেছি। ভবিষ্যতে ভিজিটরদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নিত্যনতুন কিছু ফিচার যুক্ত করা হবে। এছাড়া প্রতিটি নামের শুদ্ধ বাংলা ও ইংরেজি বানান সংযুক্ত করার কাজ চলছে। প্রতিটি নামের অর্থ, তাৎপর্য, ইতিহাস, বিক্ষাত ব্যক্তিত্ব, সোসাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ইত্যাদি বিষয় ধারাবাহিক ভাবে যুক্ত করা হবে। মনে রাখবের ‘একটি সুন্দর নাম আপনার সন্তানের সারা জিবনের পরিচয়!!!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *