নাসিরউদ্দিন হোজ্জার মজার গল্প

হাঁসের এক পা

একদিন বাদশার জন্য বাড়ীর এক রাজহাঁস মেরে ছাল ছাড়িয়ে, ভেতরে রকমারী মশলা ভরে সুসিদ্ধ করে হাতে ঝুলিয়ে চলতে থাকেন নাসিরউদ্দিন। উপহারটাকে দূর থেকে দেখে মনে হবে যেন আস্ত একটা রাজহাঁস।

পথ চলতে চলতে মশলা-মাখানো মাংসের গন্ধে খোদ নাসিরউদ্দিনেরই ক্ষিদে পেয়ে যায়। অগত্য এক গাছতলায় বসে ছুরি দিয়ে রাজহাঁসের একটি পা কেটে ভক্ষণ করেন তৃপ্তির সঙ্গে।

প্রাসাদে এসে নাসিরউদ্দিন কেতাদুরস্ত ভাবে উপহারটি তুলে দেন বাদশার থালায়। ঢাকনা খুলে বাদশা বলেন—সে কি নাসির, তোমার রাজহাঁসের মাত্র একটা ঠ্যাং?

নাসিরউদ্দিন ভেবেছিলেন বাদশা ঐ উপহারটি পেয়ে রান্নাশালে বাবুর্চির কাছে পাঠাবেন, বাবুর্চি কেটে-কুটে এনে দুজনকেই পরিবেশন করবে। তাই, এ ধরণের আচমকা প্রশ্নে প্রথমে একটু থতমত খেলেও উত্তর দ্যান-‘হুজুর ঐ দেখুন, আপনার সরোবরের রাজহাঁসগুলোরও একটা মাত্র পা৷’

 [ads-post]
আসলে সে সময় রাজহাঁসগুলো প্রাসাদের পুকুরে এক পা গুটিয়ে, আর এক পায়ে ভর করে দাঁড়িয়ে ছিল। তাই মোল্লার ভাগ্যক্রমে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তিও মিলে গেল।

কিন্তু বাদশা মোল্লার ফন্দীটী ধরে ফেলেছেন। তাই মোল্লাকে বেশ করে অপ্রস্তুত করার জন্য পার্শ্বচরকে হুকুম দিলেন—লাঠি নিয়ে রাজহাসগুলোকে তাড়াবার জন্য। লাঠির আঘাত থেকে বঁচিবার জন্য অমনি ঝটপট রাজহাঁসগুলো দুপায়ে ভর দিয়ে প্রাণপণে দৌড়তে থাকে।

‘নাসির, রাজহঁসেগুলোর প্রত্যেকেরই দুটো করে পা। দেখলে তো লাঠির ভয়ে—দু’পায়ে ওরা ছুটলো।’

‘হুজুর, তুচ্ছ হাঁসের কথা বাদ দিন। অত মোটা লাঠি নিয়ে কেউ যদি আপনাকেও তাড়া করতো, তাহলে আপনার দু’পায়ের যায়গায় চার পা গজাতো!’



আপনার সোনামনির জন্য নাম খুজে পেতে সহয়তা করতে আমরা আছি আপনার পাশে। এখানে আমরা বিভিন্ন ক্যাটাহরীতে কয়েক হাজার নাম ও তার অর্থসহ সংগ্রহ করেছি। ভবিষ্যতে ভিজিটরদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নিত্যনতুন কিছু ফিচার যুক্ত করা হবে। এছাড়া প্রতিটি নামের শুদ্ধ বাংলা ও ইংরেজি বানান সংযুক্ত করার কাজ চলছে। প্রতিটি নামের অর্থ, তাৎপর্য, ইতিহাস, বিক্ষাত ব্যক্তিত্ব, সোসাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ইত্যাদি বিষয় ধারাবাহিক ভাবে যুক্ত করা হবে। মনে রাখবের ‘একটি সুন্দর নাম আপনার সন্তানের সারা জিবনের পরিচয়!!!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *